মেনু নির্বাচন করুন

রংপুর মেডিকেল কলেজ,কেরামত আলি মসজিদ।

বাংলাদেশ ব্যাংক,রংপুর

বৃহত্তর রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের তফশিলী ব্যাংক সমূহের ব্যাংকিং কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে আরো গতিশীল করার  লক্ষে ১৯৯১ সালের ২৬শে ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক, রংপুরের কার্যক্রম শুরুহয়। তবে পূর্ণাঙ্গ উদ্বোধন করা হয় ১০ই নভেম্বর ২০০১ সালে ।

মোট ৩.৯১ একর জমির উপর নির্মিত হয়েছে এ ব্যাংকটি । ব্যাংকের সুদৃশ্য মূল ভবনের আয়তন ১৯ হাজার ৭৫৬ বর্গ মিটার এবং ৩৬৩ দশমিক ৫০ মিটার জুড়ে রয়েছে অন্যান্য ভবনসমূহ। আট তলা ফাউন্ডেশন এ ভবনের বর্তমানে চার তলা নির্মিত  হয়েছে। ব্যাংকের পাঁচটি  বিভাগে ১৭২ টি পদের অনুকুলে নিয়োজিত লোকবলের সংখ্যা ১০২। দুটি বিশেষায়িত ব্যাংকসহ মোট ২৩টি ব্যাংক-এর আওতাভুক্ত ,যার মোট শাখার সংখ্যা ৪৬৭টি। অন্যান্য বিষয়ে সভা আয়োজন করার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী  ভূমিকা পালন করে চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক,রংপুর।

মাওলানা কেরামত আলী মসজিদঃ

কেরামতিয়া মসজিদ সম্পর্কে  আলোচনার আগে যার নামের  সঙ্গে  এ মসজিদটির  সর্ম্পক একামত্মভাবে জড়িত তাঁর সর্ম্পকে একটু আলোকপাত করা প্রয়োজন।

১৮০০০-১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশে  ইসলামি সংস্কার আন্দোলনের সর্বাপেক্ষা সফলকাম  ব্যক্তি  ও গৌরবান্বিত ব্যক্তি মাওলানা কেরামত আলী (রাঃ) জৈনপুওে ১২১৫ হিজরী ১৮ মহরম জন্মগ্রহণ করেন। সারা জীবন তিনি ইসলাম প্রচারের জন্য আত্মনিয়োগ করেন। রংপুরে তিনি ইসলাম প্রচারের জন্য আসেন এবং কেরামতিয়া মসজিদে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

উলিস্নখিত মসজিদটি আয়তাকার । এর আভ্যমত্মরীন পরিমাপ৪২র্-০র্র্*১৩র্-০র্।এর পূর্ব ও পশ্চিম দেওয়ালের প্রসত্মতা ৩র্-৩র্  এবং উত্তর ও দক্ষিন দিকের দেওয়ালের প্রশসত্মতা ২র্-১০র্।সম্ভবতঃ আধুনিকায়ন ও সংস্কার হেতু পরিমাপের ক্ষেত্রে কিছুটা বৈসাদৃশ্য  পরিলক্ষিত হয়।সমতল ভূমি হতে মসজিদের উচ্চতা ১৮র্ -০র্।

মসজিদটির  তিনটি (উঁচু) গোলাকার গম্বুজ বিশিষ্ট। গম্বুজগুলো অষ্টকোণী ড্রামের উপর ভর করে নির্মিত। প্রতিটি গম্বুজের  নিমণাংশে মারলন অলংকরণ রয়েছে এবং গম্বুজের মধ্যবর্তী স্থানে প্রস্ফুটিত পদ্মফুলের উপওে কলসমোটিফ ফিনিয়াল বা চূড়া স্থাপিত দেখা যায়।

মসজিদটির প্রতিটি কোণে অষ্টভূজাকৃতি সত্মম্ব রয়েছে যার শীর্ষদেশে শোভা পাচ্ছে কিউপলা। এছাড়াও নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে বিভিন্ন খিলনাকৃতি ও প্যানেলের অলংকরণের পাশাপাশি ব্যান্ডের উপস্থিতিও  লক্ষ করা যায়। এছাড়াও মিহরাব,খিলান ও প্রধান প্রবেশদ্বারের উভয় পাশে অষ্টকোণাকৃতি সত্মম্ভেও সন্নিবেশ দেখা যায় যার শীর্ষদেশে কিউপলা স্থাপিত রয়েছে। অপরদিকে উভয় খিলানের এবং পূর্বদিকের অপর দু’প্রবেশদ্বারের ও উলেস্নখিত দরজার (উত্তর ও দক্ষিন কোণে অবস্থিত) উভয়দিকে  ক্ষীন সত্মম্ভ (বিলা্ষ্টার) মূল দেওয়ালের সাথে যুক্ত দেখা যায়।এ সত্মম্ভগুলোর শীর্ষদেশ একামত্মাজ পত্র পলস্নব দ্বারা সুশোভিত এবং নিমণাংশও কলসাকৃতি প্রকৃতির ।

এ মসজিদেও প্যারাপেট বা ছাদের  কিনারায় মারলন অলংকরণ লব্য করা যায়। প্রধান প্রবেশদ্বারগুলো চতুকৌণিক খিলনাকৃতি এবং প্রতিটি প্রবেশদ্বারের উভয় দিকেও পিলাষ্টারের সন্নিবেশ রয়েছে।

প্রতিটি প্রবেশদ্বাওে মিহরাব ও খিলানের আভ্যমত্মরীণ উদগত অংশের  (ফ্রেনটনের)উপরিভাগে মারলন অলংকরণের সাথে লতাপাতা জড়ানো ফুলের নকশা দ্বারা সুশোভিত করা হয়েছে । এ মসজিদেও উত্তর ও দক্ষিন দেওয়ালে অবস্থিত কথিত দরজার কাঠামো পরিলক্ষিত  হয়। সম্ভবতঃ এগুলো আলো বাতাস প্রবেশ ও বেরম্নবার জন্যই পথ হিসেবে নির্মিত হয়েছিল বলে প্রতীয়মান হয় । এ দরজার কাঠামেগুলোর কিয়দংশ মসজিদেও মূল দেওয়ালের বর্ধিত আভ্যমত্মরীণ উভয় ক্ষেত্রে  উদগত দেখা যায় এবং শীর্ষদেশে মারলন অলংকরণ  লক্ষ করা যায়।

এ মসজিদের প্রতিটি গোলাকার গম্বুজের (আভ্যমত্মরীণ) নিচে সারিবদ্ধভাবে মারলন অলংকরণ দেখা যায় এবং গম্বুজগুলো স্কুইন্স ও পেনডেনটিভ (ঝুলমত্ম) খিলানের আর্চের উপর ভর করে সুকৌশলে নির্মাণ করা হয়।